1. admin@dainikmanobadhikarsangbad.com : admin :
তালায় ৩৯৭৭ হেক্টর মিঠা পানির মৎস্য ঘের অনিশ্চিত - দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ
২রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ| ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| রবিবার| রাত ১২:৫০|

তালায় ৩৯৭৭ হেক্টর মিঠা পানির মৎস্য ঘের অনিশ্চিত

তালা প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০২২,
  • 121 Time View

দেশের মৎস্য চাষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সাতক্ষীরা জেলার মৎস্য চাষীরা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে তালার মিষ্টি পানীয় মৎস্য চাষে।অনাবৃষ্টির কারণে এখনো কোন চাষীরা মাছের পোনা ছাড়তে পারিনি হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে তালা উপজেলার মৎস্য চাষিরা।

তালা উপজেলার মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত এ বছর সর্ব শেষ তথ্য মতে জানা গেছে উপজেলায় মোট ৭৭৪৫ টি মৎস্য ঘের আছে তার মধ্যে মিঠা পানির (গলদা)৬৪৫০টি, এবং নোনা পানির (বাগদা) ১২৯৫ টি।

“”” মাছে ভাতে বাঙালি “”এই প্রবাদ বাক্যটি যেন বিলুপ্ত হতে চলেছে শুধুমাত্র আবহাওয়া উপযোগী না থাকায় কয়েক মাস বৃষ্টি না হওয়াই তার প্রধান কারণ। সুস্থ-সবল ও মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় অর্থনীতিতে এ সম্ভাবনাময় সেক্টরের ভূমিকা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। আর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে সাতক্ষীরা তালার মৎস্য চাষ।দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল দেশের এই উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য চাষ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১-এ উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে মৎস্য সেক্টরে অর্জিত হয়েছে দৃশ্যমান সাফল্য।কিন্তু এ বছর সকল তথ্যে যেন ম্লান হতে চলেছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পানি সংকট এর কারণে মিষ্টি পানীয় মৎস্য ঘেরে মৎস্য চাষ না হওয়ার কারণে।

মিষ্টি পানির মৎস্য ঘের সাধারণ জৌষ্ঠের শুরুতে মাছের পোনা ছাড়তে হয়। আষাঢ় ও শ্রবণে মাছ খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে কিন্তু এবছর বৃষ্টি না হওয়ায় কারনে শ্রবণের শেষের দিকেও মাছ ছাড়তে পারেনি চাষীরা। এর মধ্যে বেশিরভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে খাজনার/ ডিড করে নেওয়া চাষিরা। অপর দিকে নোনা পানিতেও মিষ্টি পানির সাদা মাছের চাষ হয় কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন হয় অতিবৃষ্টি। নোনা পানির মৎস্য চাষী মৃণাল মন্ডল জানান বৃষ্টির পানিতে নোনা জলে লবনাক্ত কমে তাই সেই সময় সাদা মাছ ছাড়তে হয় । লবনাক্ত বৃদ্ধির সাথে সাথে মাছ বড় হয়ে যাই এবং লবনাক্তের সাথে সহনশীল হয়ে উঠে। এবছর বৃষ্টির পানি না থাকায় এখনো সাদা মাছ ছাড়তে পারেনি তারা ।
মিষ্টি পানির মৎস্য ঘেরে সাধারণত কাপ জাতীয় মাছের চাষ হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম রুই, মৃগেল,কাতর, গলদা চিংড়ি, গরিবের ইলিশ সিলভার কার্প,গ্লাসকাপ ,সহ নানা প্রজাতির মাছ।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১২-১৩ সনে মাছের মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল ৩৪.১০ লাখ টনে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৩-এর তথ্যমতে, এ দেশের মোট দেশজ উৎপাদ বা জিডিপির ৪.৩৭ শতাংশ এবং মোট কৃষিজ জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৩.৩৭ শতাংশ) মৎস্য খাতের অবদান ছিল। আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় প্রায় ৬০% প্রাণিজ আমিষের জোগান দেয় মাছ। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১১ শতাংশের অধিক লোক এ সেক্টরের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। বিগত পাঁচ বছরে এ খাতে বার্ষিক অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষাধিক লোকের। দেশের রপ্তানি আয়ের ২ শতাংশের অধিক আসে মৎস্য খাত থেকে। গত পাঁচ বছরে মৎস্য উৎপাদনে গড় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৫.৮৮ শতাংশ।প্রবৃদ্ধির এ ক্রমধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০-২১ সনের মধ্যে দেশে মৎস্য উৎপাদন ৪৫.৫২ লাখ টন অর্জিত হয়। ফলে ২০২০-২১ সনে দেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রক্ষেপিত মৎস্য চাহিদা (৪৫.২৮ লাখ টন) পূরণ করা সম্ভব ছিল। প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে দেশের ১১ শতাংশের অধিক বা প্রায় ১৭১ লাখ লোক তাদের জীবন-জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য উপ খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য সেক্টরে সংশ্লিষ্ট এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ নারী, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক শতাংশ। এছাড়াও বিগত পাঁচ বছরে এ সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অতিরিক্ত বার্ষিক ৬ লক্ষাধিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, বর্তমানে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে নিয়োজিত শ্রমিকের ৮০ শতাংশের অধিক নারী।

এ সকল তথ্য কি ইতিহাস হয়ে থাকবে না কি এবছরের তথ্য নিম্নগামী হতে চলেছে। বৃষ্টি না হলে আর মাছের চাষে এমন ন্যাচারাল প্রতিবন্ধকতা থাকলে সাধারণত মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে মাছ।
তালা উপজেলা মিষ্টি পানীয় মৎস্য চাষি মোঃ আসাদুজ্জামান সহ একাধিক চাষী জানান এবছর বৃষ্টি না হওয়ায় কারনে ঘেরে মাছ ছাড়তে পারেনি। বছর শেষে জমির মালিক দের লক্ষ লক্ষ টাকা হারি বাবদ পরিশোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা স্নীগ্ধা খা বাবলি জানান এ বছরে উপজেলায় ৭০১৫ হেক্টর জমিতে মৎস্য চাষ হয়ে থাকে, যার মধ্যে মিঠা পানির ৩৯৭৭ হেক্টর ও নোনা পানির ৩০৩৮ হেক্টর জমিতে মৎস্য চাষ হয়। এর মধ্যে মিঠা পানীয় ৩৯৭৭ হেক্টর মৎস্য ঘের পানির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। তালা উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সকল সময় মৎস্য চাষীদের পাশে আছেন এবং থাকবেন সরকারী ভাবে সকল সুযোগ সুবিধা যথার্থ ভাবে চাষীদের মাঝে প্রদান করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও মাছের খাদ্য সহ নানা উপকরণ প্রদান করা হয়েছে প্রান্তিক চাষিদের কিন্তু পানির অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে এই এলাকার মৎস্য ঘের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © প্রকাশক কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত -২০২২