1. admin@dainikmanobadhikarsangbad.com : admin :
তালায় ভূয়া সনদে দু’সহোদরের কোটায় সরকারি চাকুরী বহাল রাখতে মৃত পিতাকে মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্তির আবেদন! - দৈনিক মানবাধিকার সংবাদ
১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ| হেমন্তকাল| বৃহস্পতিবার| রাত ৩:৫৩|
শিরোনামঃ
সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় অকেজো হয়ে যাচ্ছে ২০ কোটি টাকার সেতু পাইকগাছায় রেশনের চাল ওজনে কম দেয়ায় ডিলারকে জেল- জরিমানা মুজিব কোট পরলেই মুজিব সৈনিক হওয়া যায় না-সেতুমন্ত্রী তালার আরিফুল ইসলাম বাবলু বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ অভিষেক অনুষ্ঠিত করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সুপারিশ দুধে অপদ্রব্য মেশানোর অভিযোগে এক ব্যবসায়িকে দুই লাখ টাকা জরিমানা রামগড় ৪৩ বিজিবির আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পাটকেলঘাটায় ভুয়া সম্পাদক ও ১ ডজন মামলার আসামি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার। উপ-শাখা সীপকস পঞ্চগড়, এর পক্ষ থেকে মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ।

তালায় ভূয়া সনদে দু’সহোদরের কোটায় সরকারি চাকুরী বহাল রাখতে মৃত পিতাকে মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্তির আবেদন!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, জুলাই ৫, ২০২২,
  • 389 Time View

যাচাই বাছাই কমিটির সু- দৃষ্টিকামনা

সাতক্ষীরার তালায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রস্তুতকারী সিন্ডিকেট নিয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলাকালীণ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও যাচাই-বাছাই কমিটিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ হওয়ায় নতুন করে বিষয়টি নিয়ে সরব হয় উঠেছে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা। ধারণা করা হচ্ছে, সুষ্ঠু তদন্তে উঠে আসবে জনপদের জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রস্তুতকারী একটি সিন্ডিকেটের আদ্যপান্ত।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্যানুসন্ধানে জানাযায়, তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত বসন্ত সাহার ছেলে মৃত লোলিত মোহন সাহা জীবদ্দশায় নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে একাধিক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রস্তুত করেন। যার একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাময়িক সনদপত্র,যার স্মারক নং-মুবিম/সা/খুলনা/প্র-৩/৪৫/২০০২/৩৯০, তারিখ-১৯-০৪-২০০৩। যার সার্টিফিকেট নং-১৪৮৬০। অপরটি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে মহম্মদ আতাউল গনী ওসমানী স্বাক্ষরিত দেশরক্ষা বিভাগের স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র। এরপর তিনি ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তালা উপজেলা সংসদের কমান্ডার মফিজ উদ্দিনের নিকট থেকে তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রত্যায়ন পত্র, এরপর ৬ এপ্রিল সাতক্ষীরা জেলা ইউনিট কমান্ডার মোশারফ হোসেন (মশু), একই বছরের ১৫ জুলাই ধানদিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো: তবিবর রহমান, এরআগে ২০০৯ সালের ১৫ মে যুদ্ধকালীণ খুলনা বিভাগের লে: অবসরপ্রাপ্ত গাজী রহমতুল্লাহ দাদুর কাছ থেকে পৃথক প্রত্যায়নপত্র প্রস্তুত করেন। এরমধ্যে পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও দক্ষিণ শারসা গ্রামের মৃত ফকির আহাম্মেদ গাজীর ছেলে মো: তবিবর রহমান জানতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। মূলত লোলিত মোহন সাহার ছেলেরা তাকে বিভিন্ন জাল ও তঞ্চকতাপূর্ণ সনদসহ ভূয়া প্রত্যায়নপত্র দেখিয়ে তার কাছ থেকে অনুরুপ প্রত্যায়ন নিয়েছে। মূলত এসব সনদে তার দু’ ছেলে যথাক্রমে বীরেন্দ্র নাথ সাহা ২০০৮ সালে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ প্রাপ্ত হয়, অপরজন প্রতাপ কুমার সাহা ২০০৯ সালে একই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেটায় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বর্তমানে তারা সরুলিয়া স:প্রা: বিদ্যালয় ও আসাননগর স:প্রা: বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরীরত রয়েছেন। তবিবর রহমান মূলত তার কাছ থেকে প্রত্যায়ন নেওয়ার আগেই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় তাদের চাকুরীর বিষয়টি অবগত হওয়ায় পরই বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। এরপর তিনি সাতক্ষীরা বিজ্ঞ ০৬ নং আমলী আদালতে প্রতাপ কুমার সাহা ও তার ভাই বীরেন্দ্র নাথ সাহার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। যার নং সিআর-১৯৬/২০(পাট), ধারা: ৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/৪১৭ ও ১১৪ দ:বি:।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক সত্যতা/অসত্যতা নির্ধারণপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই সাতক্ষীরাকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার স্মারক নং-পিবিআই/মামলা/২০২০/৩৬২৭/সিআরও (পশ্চিম), ২০/১২/২০২০ মোতাবেক মামলাটি গ্রহনের পর বিভিন্ন সময় একাধিক তদন্ত কর্মকর্তার তদন্ত ও সর্বশেষ পিবিআই, সাতক্ষীরার এসআই সৈয়দ রবিউল আলম পলাশ দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২০/৪/২১ তারিখে সংশ্লিষ্ট সাতক্ষীরা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে ১নং বিবাদী প্রতাপ কুমার সাহা ও ২ নং বিবাদী বীরেন্দ্র নাথ সাহা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেটায় তাদের পিতা ললিত মোহন সাহার নামে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং-মুবিস/সা/খুলনা/প্র-৩/৪৫/২০০২/৩৯০, তারিখ-১৯/০৪/২০০৩ মূলে ১৪৮৬০ নং ক্রমিকের সাময়িক সনদপত্রটি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় হতে যাচাই করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ সাচব (সনদ) ডা: দুলাল কৃষ্ণ রায় স্বাক্ষরিত স্মারক নং ৪৮.০০.০০০০.০০৩.৫০.০৩০.১৮.৬১ তারিখ-২৩/০২/২০২১ এর মাধ্যমে জানানো হয় তাদের উপস্থাপনকৃত সাময়িক সনদপত্রটি সঠিক নয়। এছাড়া তারা জাল সনদকে আসল সনদ হিসেবে ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে অদ্যবধি সরকারি তহবিলের অর্থ গ্রহন করায় তাদের বিরুদ্ধে দি পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/৪২০ ধারার অপরাধ পাওয়া যায় বলে জানানো হয়।

এদিকে ধানদিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও তালা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডার তবিবুর রহমান প্রতাপ ও তার ভাই বীরেন্দ্র নাথ সাহার বিরুদ্ধে আদালতের ১৯৬/২০ মামলায় পরিত্রাণ পেতে গত ১৩/৪/২০২১ তারিখে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ নোটারী পাবলিকের কার্যালয় থেকে এফিডেভিটের মাধ্যমে অঙ্গীকার নামা প্রস্তুত করেন। যেখানে তারা বাদীর কাছ থেকে প্রত্যায়নপত্র গ্রহনের কথা স্বীকার করে তা বাদীর অনুকূলে ফেরৎ প্রদানপূর্বক উল্লেখ করেন যে, ইতোপূর্বে তারা কোথাও প্রত্যায়নটি ব্যাবহার করেননি এমনকি ভবিষ্যতেও করবেননা। এছাড়া ঐ অঙ্গীকার নামায় তারা আরো উল্লেখ করেন যে, উক্ত প্রত্যায়ন ব্যাতীত মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র, সনদ তারা গ্রহন করেননি।

এর আগে ললিত মোহন সাহার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত হতে তার ছেলে জগদীশ চন্দ্র সাহা গত ২৮/১০/২০১৩ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে অনলাইনে আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বিষয়টি গত ১/১০/২০১৫ তারিখে তালা উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটিকে প্রেরণ করেন।

এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারী মৃত ললিত মোহন সাহাকে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই তালিকা থেকে বাদ দিতে ও তালিকায় অন্তর্ভুক্তি না করতে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি তালা বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন যে, ললিত মোহনের ছেলেরা তাকে গেজেটভূক্ত করতে অনলাইন আবেদনের

প্রেক্ষিতে যাচাই বাছাই কমিটিতে স্বাক্ষীসহ উত্থাপিত তথ্যাদি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট। এমনকি তার পক্ষাবলম্বনকারীদেও অঅর্থিক ও অন্যান্যসুবিধা প্রদানের প্রলোভনে উদ্বুদ্ধ করেছে। এমন কি সাক্ষ্যদাতাদের অনলাইন আবেদনের (ডি.জি নং উএ১১০৬৪৬৮) সাথে মিল নেই। এমনকি তাকে যাচাই বাছাই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি একটি সঠিক ও নির্ভূল তালিকা প্রনয়নের দাবি জানানো হয়। তিনি আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, মন্ত্রনালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরন করেন।

সর্বশেষ এত কিছুর পরও ললিত মোহনের ছেলেরা তার মৃত পিতাকে মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভূক্ত করতে প্রতিনিয়ত নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। এমনকি অনলাইন আবেদনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আরো একটি তঞ্চকতাপূর্ণ সনদ প্রস্তুত করতে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এমন একটি অডিও রেকর্ডও সংবাদকর্মীদের হাতে পৌছে গেছে। বিস্তারিত তদন্তে যার মুখোশ উন্মোচন হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © প্রকাশক কতৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত -২০২২
Theme Customize BY BD IT HOST